এফবিসিসিআইয়ে অসন্তোষ চলছে

পোস্ট করা হয়েছে 02/02/2015-11:03pm:    ঢাকা অফিস : বোর্ড মিটিং ও লিগ্যাল কমিটিতে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই চিটাগাং ইউমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের মনোনীত পরিচালক নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সংগঠনের পরিচালক ও সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তবে এ নিয়ে মতবিরোধ থাকার কারণে এখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিচলনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে সুপারিশকৃত সংগঠনকে মনোনয়ন দেয়নি বলে জানা গেছে। এ সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালক, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, এটা অনেক আগের বিষয়। এটা সকলে জানে। মনোয়ারা হাকিম আলী যখন সংগঠনের সভাপতি ছিলেন তখন সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো কিছুই সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। মনোয়ারাকে মনোনীত পরিচালক নির্বাচনের জন্য ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় এফবিসিসিআই। বিষয়টি এতোদিন গোপন থাকলেও হঠাৎ করে গত ডিসেম্বর সদস্য ও পরিচালকদের মধ্যে জানাজানি হয়। এরপর অসন্তোষের কথা জানিয়ে একজন পরিচালক এই বিতর্কের সমাধান চেয়ে গত ২০ জানুযারি এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্টের কাছে ইমেইলে আবেদন করেন। কিন্তু আজও কোনো উত্তর পাননি। যোগাযোগ করা হলে এফবিসিসিআই এর পরিচালক ভরসা শফিকুল ইসলাম জানান, কাউকে পর্ষদের পরিচালক পদে মনোনয়নে জন্য বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হয়নি। এছাড়া লিগ্যাল কমিটিতেও আলোচনা হয়নি। তবে সরকার ইচ্ছে করলে যে কাউকে পরিচালক মনোনয়ন দিতে পারে। অপর পরিচালক তাবারাকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটু জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিচালক মনোনয়নের সুপারিশের বিষয়ে জানা নেই। তবে নৈতিকতার দিক থেকে হলেও বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উঠানো উচিৎ বলে মনে করেন তিনি। জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনটির বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। পরবর্তীতে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফায় মন্ত্রণালয় কমিটির মেয়াদ বাড়িয়েছে। এতে সংগঠনটিতে ব্যবসায়ীরা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে পরিচালক মনোনয়নের বিষয়ে পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা না করায় বর্তমান কমিটির ওপর তাদের আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এছাড়া সংগঠনটির নেতারা তাদের পছন্দের লোকজনকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং বিদেশে সফর সঙ্গী হিসেবে নিতে ব্যস্ত থাকারও একটি অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ফ্রান্স সফরের সময় সংগঠন সচিবালয়ের থেকে প্রেসিডেন্টের নামে ব্যবহার করে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানোর কারণে সফর বাতিল হয়ে যায়। এতে সংগঠনটি বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে পড়ে। এছাড়া সংগঠনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যোগাযোগ করা হলে মনোয়ারা হাকিম আলী জানান, মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে যে কাউকে মনোনয়ন দিতে পারে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে এফবিসিসিআই এর কাছে মতামত চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলাম তখন প্রেসিডেন্ট সাহেবের নির্দেশনায় মহাসচিব সুপারিশ করেছিল। এখন মন্ত্রণালয় তার ইচ্ছেমতো মনোনয়ন দিতে পারে।’

সর্বশেষ সংবাদ