সমুদ্র বিজয়: বঙ্গবন্ধু থেকে নতুন বাংলাদেশ/ মো. আবুল হাসান,

পোস্ট করা হয়েছে 18/08/2014-06:47pm:   
২৩ জুন তারিখটি গুরুত্বপূর্ণ দুটি কারণে। প্রথম কারণ ১৭৫৭ খিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধ। দ্বিতীয় কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ শাসনকারী বিখ্যাত রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’ জন্মগ্রহণ। ১৯৪৯ সালের ওই দিনেই সম্পৃক্ত হয়েছিল এই দেশের স্বাধিকার আন্দোলনের পূর্বকথা। সুপ্ত হয়ে থাকা এই আন্দোলনের শুরু অবশ্য তারও এক বছর আগে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র চার মাস ২০ দিনের মাথায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় এবং তৃণমূলে গভীর শিকড়ে প্রোথিত রাজনৈতিকদল আওয়ামীলীগ।
১৯৪৮ সালের শুরু থেকেই পাকিস্তানে একটি রাজনৈতিক স্থবিরতা বিরাজ করছিল। কারণ পাকিস্তানের জন্য সংবিধান প্রণয়ন হয়নি, যে কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। উপরন্তু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে একটি জাতিগত বিভক্তিরেখা স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হতে শুরু করেছিল। এর পাশাপাশি একটি সর্বব্যাপী বৈষম্য সহজে দৃষ্টিগোচর হতে থাকে সচেতন বাঙালির কাছে। আর এ বৈষম্য থেকে উৎসারিত ঘৃণাবোধই প্রকারান্তরে পূর্ব ও পশ্চিমের সংস্কৃতিগত পার্থক্যকে জ্বলজ্বলে করে তোলে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ বিভক্তির প্রশ্নে। তখন পূর্ব পাকিস্তানের আপামর বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে মুসলিম লীগ থেকে বেরিয়ে আসেন পাকিস্তান আন্দোলনের প্রথম সারির প্রায় সব বাঙালি নেতা, যারা মাত্র ক’দিন আগে পাকিস্তান সৃষ্টির ভিত গড়ে তুলেছিলেন। শেখ মুজিব ছিলেন এই দলছুট প্রথিতযশা নেতাদেরই একজন। তিনি গড়ে তুললেন আওয়ামী মুসলিম লীগ, যা ছ’বছর পর ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর মূল নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সূচনা করেন। দলের জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামীলীগের ৪২ দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তি ছিল ‘গণতন্ত্র’। জনগণের কাছে কাক্সিক্ষত গণতন্ত্রের স্বাদ পৌঁছে দেয়া এবং এই গণতন্ত্র কায়েমের সংগ্রামই ছিল আওয়ামী লীগের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, যা পূর্ব পাকিস্তানের তাবৎ বাঙালি গণমানুসকে আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করে। গণতন্ত্রকামী জনগণের, ব্যাপক সমর্থ সম্বল করে আওয়ামীলীগ রাজনীতির মূল স্রোতধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।
শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৃণমূল থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতীয়তাবাদের শিকড় প্রোথিত হতে থাকে। পর্যায়ক্রমিক দীর্ঘকালব্যাপী রাজনৈতিক আন্দোলন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে অবশ্যম্ভাবী ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল তার প্রধানতম প্রাণপুরুষ ছিলেন শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের স্বাধীনতার মূল স্থপতি, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান সারথি ও অগ্নিপুরুষ। মুক্তিযুদ্ধকালীন একাত্ত নয় মাস মুক্তিযোদ্ধারা এবং অবরুদ্ধ বাংলাদেশকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গিয়ে দিল দেশের মানুষ অকারণে বা নিছক আবেগের তাড়নায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে জাতির পিতা হিসেবে বরণ করে নেয়নি।
অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা এলো। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকল মুজিবের। ত্রাণকর্তা হয়ে মুজিব আসবেন। তারপর ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসবে বাঙালি জাতি। মানুষের বুকে ছিল তখন অজস্র মৃত প্রিয়জনের জন্য শোক। অপেক্ষার পালাডিঙ্গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে তার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার পূর্বে বাংলাদেশের জল ও স্থল সীমানা নির্ধারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমানা প্রটোকলে ছিটমহল সংক্রান্ত বিষয় অর্ন্তভুক্ত হয়েছিল। এর ফলে আমরা ১১১টি অপ্রবেশ্য ছিটমহলের বিনিময়ে ৫১টি ছিটমহল পেয়েছি। একই সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত কমেছে, ট্রানজিট সুবিধা উন্মুক্ত হয়েছিল।
দেশে স্বাধীন হওয়ার পর পরই বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন একটি স্বাধীন দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ আর জ্বালানি যোগাড় করা অপরিহার্য। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন সংসদে পাশ করান। এর পরপরই তিনি বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করেন। সাতটি কোম্পানিকে নির্বাচিত করা হয়। এই সাতটির মধ্যে ইউনিকোল (তখন ইউনিয়ন অয়েল কোম্পানি অব ক্যালিফোর্নিয়া) চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ার উপকূলে গ্যাসের সন্ধান পায়। বঙ্গোপসাগরের গভীরেও ছয়টি অঞ্চলকে ছয়টি ব্লকে ভাগ করে বাকি ছয়টি বিদেশি কোম্পানিকে তা তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ইজারা দেয়া হয়। বাধ সাথে ভারত। তারা দাবী করে ব্লকগুলি ভারতের জল সীমান্তে।
এমনি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন তেল উত্তোলনকারী দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের আগে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ১৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত ‘ঞবৎৎরঃড়ৎরধষ ডধঃবৎং ধহফ গধৎরঃরসব তড়হবং অপঃ. ১৯৭৪’ জারি করে। এই আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার আঞ্চলিক বা উপকূলীয় সমুদ্র অঞ্চল, সন্নিহিত বা সংলগ্ন সমুদ্র অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সংরক্ষিত এলাকা, মহীসোপান বিষয়ে বাংলাদেশের আইনগত কর্তৃত্বের ঘোষণা দেয়।
ভারত বাংলাদেশ প্রথম প্রতিবাদলিপিটি ছিল সমুদ্র সংক্রান্ত। ভারত সরকার নভেম্বর, ১৯৭৪ এক প্রতিবাদলিপিতে বাংলাদেশের দাবীকৃত উপকূলীয় সমুদ্র অঞ্চলের মধ্যে ২১ মাইল ভারতীয় এলাকা দাবী করে। সমুদ্রসীমা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক দিল্লিতে শুরু হয় ২৯ মার্চ, ১৯৭৫। এই বৈঠকে সমুদ্রসীমা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর ওপর ন্যস্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়ানের পর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সকল পদক্ষেপ বন্ধ হয়ে যায়। জল ও স্থল সীমানা নির্ধারণে দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন বঙ্গবন্ধুতনয়া, আওয়ামীলীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
দীর্ঘ ষাট বছরে আওয়ামীলীগ বাঙালিকে দিয়েছে তার বাঙালি জাতিসত্তা ও বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা, একটি জাতিরাষ্ট্র; গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও একটি সুন্দর শাসনতন্ত্র ও সর্বোপরি আত্মমর্যাদাবোধ। আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপিত হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ হবে একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ। বাংলাদেশ হবে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। এই প্রত্যাশা আপামর জনগণের। এই লক্ষ নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সালিসি ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমার ও ভারতের অনুকূলে সালিসি নোটিশ প্রেরণের সাহসী, দূরদর্শী একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতার পর শেখ হাসিনার ছাড়া আর কোনো সরকারপ্রধান দেশের জন্য এমন অনন্যসাধারণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়নি। এর ফলে স্বাধীনতার চার দশক পর বাংলাদেশের মানচিত্র সম্পূর্ণতা পেল। বাংলাদেশ পেল আরেক বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর পরই প্রথমে জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দি ল অব দি সি (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঞৎরনঁহধষ ভড়ৎ ঃযব খধি ড়ভ ঃযব ঝবধ-ওঞখঙঝ) বা ইটলসে মায়ানমারের সাথে জল সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য মামলা করেন। একই বছর ভারতের সাথে বিরোধপূর্ণ সমুদ্র সীমা চিহ্নিত করার জন্য আরেকটি মামলা করেন এ সংক্রান্ত পৃথিবীর সর্বোচ্চ আদালতে।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ৯ মাসের আইনি লড়াই করে শেষ পর্যন্ত আইনগত ও কূটনৈতিক ভাবে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ। ২০১২ সালের ১৪ মার্চ জার্মানির সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে মিয়ানমারের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়। দ্বিতীয়টি গত ৭ জুলাই নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালতে ভারতের বিপরীতে বাংলাদেশের বিজয়। বঙ্গোপসাগরে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোটিারের মধ্যে আদালতের রায় অনুযায়ী বাংলাদেশ পেয়েছে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এবং ভারত পেয়েছে ছয় হাজার ১৩৫ বর্গকিলোমিটার। এর আগে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ৮০ হাজার বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ৭০ হাজার বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ লাভ করে। সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের রাষ্ট্রীয় সমুদ্র পেয়েছে। এই রায়ের ফলে ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে মহীসোপানে বাংলাদেশের অবাধ প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। নতুবা ভারত ও মিয়ানমার যেভাবে সমদূরত্বের ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের দাবি তুলেছিল, এতে বাংলাদেশের উন্মুক্ত সমুদ্রে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ত।
এই মামলায় বহুল আলোচিত দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ হেগের স্থায়ী সালিসি আদালতে গুরুত্ব পায়নি। এই দ্বীপটি বেশ কয়েক বছর আগে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হেগের আদালতের বিচারকেরা গত বছর সরেজমিন এসে এই দ্বীপের অস্তিত্বের প্রমাণ পাননি। তবে বঙ্গোপসাগরের যে জায়গায় আগে দ্বীপটি ছিল, সে অংশটি আদালতের রায়ে ভারতের অংশে পড়েছে। তবে সুন্দরবনের দক্ষিণে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে অবস্থিত বিশাল মৎস্য আহরণ ক্ষেত্রটি বাংলাদেশের সীমানায় রয়েছে। ভারতের দাবী থাকলেও আদালত তা আমলে নেয়নি।
সমুদ্র বিজয়ের ফলে এশিয়ার মোড়ল দেশ চীন ভারতের সম্প্রসারণবাদী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এখন বাংলাদেশের আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর নির্ভর করবে। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর কেন্দ্রীক উচ্চাভিলাষী সমুদ্র সিল্ক রোড নির্মাণ পরিকল্পনার অংশীদার করতে হবে বাংলাদেশকে।
সমুদ্রসীমা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় বাংলাদেশের জন্য নিয়ে এসেছে অফুরান সম্ভাবনা। এখন সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য উপযুক্ত জনবল তৈরি করতে হবে, কমাতে হবে বিদেশনির্ভরতা। প্রাকৃতিক এ সম্পদ আহরণ করে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অল্পদিনেই উন্নত দেশে পরিণত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে জন ঘনপূর্ণ দেশ। জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ৫ কোটি লোককে সমুদ্রে অবস্থান ও সমুদ্র সম্পদের উপর নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করতে হবে। সমুদ্র সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর থাকা সত্ত্বেও দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তির অভাবে সে সম্পদ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ।
দেশের বর্তমান বিশাল ভৌগোলিক অবস্থায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনসংখ্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অবদান লক্ষ করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ৩০০ শত সাবমেরিন, ২০ হাজার নৌজাহাজ, অর্ধকোটি সদস্যের একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি সাগর মহাসাগরে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সাবমেরিন ও জাহাজ তৈরির কর্মীবাহিনী গড়ে তুলার জন্য সমুদ্র নিকটবর্তী ২৪টি জেলায় সাবমেরিন ও জাহাজ বিল্ডিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। মেরিন চিকিৎসক, মেরিন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মেরিন আর্মস তৈরি মেরিন আর্মস পরিচালনা মেরিন আবহাওয়া, মেরিন অর্থনীতি, মেরিন হাইড্রোলিক্স, মেরিন ফিসারিজ, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ডিপ্লোমা কোর্স অধ্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। নৌস্কুল প্রতিষ্ঠা বিষয়েও অগ্রসর চিন্তা করতে হবে।
সমুদ্র বহিরাগমন ও পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ৩০-৪০ হাজার জাহাজ বিশিষ্ট একটি পরিবহনপুল সৃষ্টি করতে হবে। প্রতি বছরে গড়ে ৩ হাজার জাহাজ বাংলাদেশে আগমন করে। এই সমস্ত জাহাজে মাত্র ৪ হাজার মেরিনার দেশে বিদেশে কর্মরত আছে। এই সংখ্যার অভিলাষ হবে ৫ লক্ষ। ভিশন নির্ধারণ হবে প্রতিটি উপকূলীয় জেলায় সরকারি বেসরকারিভাবে একাধিক মেরিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
এ মুহুর্তে দেশের নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এদেশের দুটো সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দরের মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নব্বই শতাংশই হয় জাহাজের মাধ্যমে। এর পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ষাট হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৃতীয় বন্দর নির্মাণে উদ্যোগী হওয়া দরকার। আমাদের দখলীকৃত সমুদ্রে প্রাণীজ যে সমস্ত সম্পদ রয়েছে সেগুলো কেবল উত্তোলন করলেই হবে না বরং দেশে বিদেশে প্রাণীজ খাদ্য প্রসেস করে প্রেরণের জন্য সরবরাহজনিত ব্যবস্থাপনার শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এদিকে সমুদ্রে যে সমস্ত বিভিন্ন পুষ্টিগুণসম্পন্ন আগাছা রয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট ব্যস্থাপনার আলোকে আগাছাগুলো উত্তোলন এবং তা বিদেশে রপ্তানির জন্যে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। সমুদ্রে জ্বালানি সম্পদ ছাড়াও রয়েছে খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার। এ সমস্ত খনিজ সম্পদ যাতে দেশি উদ্যোক্তারা আহরণ করেন সেজন্যে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান করা যেতে পারে। মহামূল্যবান এ সমস্ত খনিজ সম্পদের মধ্য রয়েছে ম্যাগনেটাইট, জিরকন, রিউটাইল, ইলমেনাইট প্রভৃতি। উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহ মানসম্পন্ন ট্রলার এবং ফিশিং বোট তৈরিরর উদ্যোগ বেসরকারি খাতকে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশের স্থলসীমার প্রায় সম-আয়তনবিশিষ্ট সমুদ্রাঞ্চল দেখভাল করার জন্য একাধিক সমদ্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং বিষয়ভিত্তিক দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিভাগীয় ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা এখনই প্রয়োজন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এদেশের জনগণকে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছিলেন ‘স্বাধীনতা অর্জন থেকে স্বাধীনতা রক্ষা করা অনেক কঠিন’। সমুদ্র বিজয়ের সুফল ভোগ করতে উপরোক্ত পরিকল্পনায় এগুতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা, বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার স্বপ্ন ২০৪০ সালে উন্নত দেশ হওয়ার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

সর্বশেষ সংবাদ
আজ কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর মৃত্যুবার্ষিকী ২৪ জানুয়ারির গণহত্যা শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে ডকুমেন্টারি তৈরির পরিকল্পনা মির্জাপুল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মেয়র আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের ১৯৬তম জন্মদিন নগরীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দু’জন রোহিঙ্গা আটক দেশের অগ্রযাত্রায় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতার আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নদী দখলে দেশে চট্টগ্রাম বেশ এগিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা টাইগাররা মাত্র ১৪১ রানের লক্ষ্য দিল পাকিস্তানকে । সোনার বাংলা বিনির্মাণই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য সেতুমন্ত্রী