নগরীতে স্মার্টকার্ড বিতরণ অনিশ্চিত !

পোস্ট করা হয়েছে 01/06/2018-09:09am:    নগরীর ৬১ হাজার ৫৯৭ জন ভোটার নানা সমস্যার কারণে স্মার্টকার্ড পাননি। কখন পাবেন তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না নির্বাচন কমিশনারের কর্মকর্তারা। তবে চলতি বছর তারা স্মার্টকার্ড পাচ্ছেন না, সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তারা জানালেন, দুই কারণে অনেক ভোটারের কার্ড ছাপানো হয়নি। বিশেষ করে ভোটারদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গড়মিল অথবা তথ্যের ত্রুটিগত কারণে সার্ভারে সাপোর্ট করেনি। তাই অনেক ভোটারের স্মার্টকার্ড ছাপানো হয়নি। তবে কার্ড বিতরণের সময় স্মার্টকার্ড না পাওয়া ভোটারদের অভিযোগ লিখে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ তুলে রাখা হয়েছে। স্মার্টকার্ড ছাপানোর সুবিধার জন্য এসব প্রক্রিয়া করে রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলতি বছর হচ্ছে নির্বাচনের বছর। এছাড়াও বিভিন্ন জেলার সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ নানা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তারা। এ সময়ের মধ্যে নতুন করে স্মার্টকার্ড ছাপানো ও বিলি-বণ্টনের মধ্যে সময় এই বছরে আর হচ্ছে না। স্মার্টকার্ড না পাওয়া বাগমনিরাম ওয়ার্ডের নাজমুল হায়দার, শিশির বিন্দু চৌধুরী, আবুল কাশেম নওশাদ সাইদ, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তিন মাসের মধ্যে কার্ড দেওয়ার কথা বলেছিলেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্ড পাওয়া যায়নি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুনীর হোসাইন বলেন, দুই সমস্যার কারণে অনেক নাগরিকের স্মার্টকার্ড ছাপানো হয়নি। স্থায়ী ঠিকানা, ভুলের কারণে বেশিরভাগ কার্ড ছাপানো হয়নি। ঠিকানা, জন্ম তারিখ বা অন্যান্য ভুলের জন্য আবেদনের মাধ্যমে ভোটারদের সংশোধন করে নিতে হবে। স্মার্টকার্ড না পাওয়া নাগরিকেরা কখন স্মার্টকার্ড পাবেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কাজ করছে। স্মার্টকার্ড পাবেন না তা বলা যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, স্মার্টকার্ড ছাড়া নেমিনেশন করা পুরোনো কার্ড দিয়ে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, নগরীর কোতোয়ালী থানায় বিতরণযোগ্য কার্ডের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮টি। বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার ৮৭টি। কিন্তু কার্ড নিতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে এসেছিলেন এক লাখ ৪৭ হাজার ৩১৭টি। কোতোয়ালী থানায় ৫ হাজার ২৩০ কার্ড সমস্যার কারণে পাওয়া যায়নি। ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ কার্ড বিতরণ করা হয়নি। ডবলমুরিং থানায় বিতরণযোগ্য তিন লাখ ৯৮ হাজার ২৩৬টি কার্ডের মধ্যে দুই লাখ ৪০ হাজার ২২৯টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সমস্যার কারণে ১৭ হাজার ২৭১টি পাওয়া যায়নি। ৬৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ কার্ড বিলি করা হয়েছে। পাহাড়তলী থানায় বিতরণযোগ্য ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৯ কার্ডের মধ্যে এক লাখ ৯৯ হাজার ৯৮৪টি বিতরণ করা হযেছে। বিতরণের হার ৭০ শতাংশ। সমস্যার কারণে কার্ড পাওয়া যায়নি ২২ হাজার ১৯২টি। চান্দগাঁও থানায় বিতরণযোগ্য ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭শ কার্ডের মধ্যে এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণের হার ৬৬ শতাংশ। সমস্যার কারণে কার্ড পাওয়া যায়নি ১৪ হাজার ৫শ। বন্দর থানার ওয়ার্ডগুলোতে বিতরণযোগ্য তিন লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৩টি কার্ডের মধ্যে ৯ হাজার ১১৫টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে কার্ড বিতরণ এখনো চলমান রয়েছে। পাঁচলাইশ থানার ওয়ার্ডগুলোতে বিতরণযোগ্য ৪৪ হাজার ৬১২ কার্ডের মধ্যে ২৯ হাজার ৯৫৫ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ৭১ দশমিক ৪৬ শতাংশ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কার্ড বিতরণ চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ের ৯ মে পর্যন্ত হিসাবে দেখা যায়, ৬ থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পাঁচলাইশ ও বন্দর থানার তিন ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণ চলমান রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের মে মাসে নগরীতে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। বিতরণের শুরুতে পাহাড়তলী ওয়ার্ডের এসএম জয়নাল আবেদীন, মো. সিরাজ, আবুল বশর, মো. লাল মিয়া কার্ড পাননি। কার্ড না পাওয়া ভোটারদের আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ তুলে রাখা হয়েছে। তিন মাস পর নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্ড পাননি তারা। নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সময় নাগরিকদের ঠিকানায় ভুল রয়েছে। এছাড়াও নামের বানানে ইংরেজি ও বাংলার ভুলের কারণে অনেক কার্ড বিলি করা হয়নি। ঠিকানা ও জন্ম তারিখ ভুলের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে হবে। বানান ভুলের সংশোধন নির্বাচন কমিশন করবে। ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকলেও তা সহসা হচ্ছে না। সংশোধনের জন্য নির্বাচন কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে ভ্যাটসহ ২৫৩ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা জানান, ২০০৭ সালের নিবন্ধিত নাগরিকদের তথ্যে ছবি ও লিখায় বেশি ত্রুটি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তা ধরা পড়েছে। ত্রুটিযুক্ত নাগরিকদের কার্ড ছাপানো হয়নি। সংশোধিত তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুনরায় ছাপানো পর তাদের মধ্যে কার্ড প্রদান করা হবে। নিভুল কার্ড প্রদানের জন্য কমিশন চেষ্টা করে যাচ্ছে। স্মার্টকার্ডে ব্যক্তির নাম (বাংলা ও ইংরেজি), মা-বাবার নাম, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন নম্বর দৃশ্যমান থাকছে। কার্ডের পেছনে থাকছে ব্যক্তির ভোটার এলাকার ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ ও জন্মস্থান। তবে সব মিলিয়ে স্মার্টকার্ডের মধ্যে থাকা চিপ বা তথ্যভান্ডারে ৩২ ধরনের তথ্য রয়েছে। যা মেশিনে পাঠযোগ্য। স্মার্টকার্ডে তিন স্তরে ২৫টির অধিক নিরাপত্তা থাকবে। এই স্মার্টকার্ড বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্রের চেয়ে অনেক বেশি স্থায়ী ও টেকসই। স্মার্টকার্ডটি সহজে নকল করা যাবে না। এসব কার্ডে চিপ, দুটি বারকোড, মেশিন রিডেবল জোন (এমআরজেড) এ তিনটি স্তর থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদ