চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতি

পোস্ট করা হয়েছে 09/06/2016-04:41pm:    খন রঞ্জন রায় লেখক ও প্রকাশক: স্বাস্থ্যসেবা একটি সামাজিক কার্যক্রম। স্বাস্থ্য একটি স্বীকৃত মানবাধিকার। পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম একটি। স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে মানুষের রোগ নিরাময় ও শারীরিক পরিচর্যা শাসিত ও পরিচালিত হয়। রোগ নির্ণয়, রোগ নিরাময়, রোগ প্রতিরোধ প্রতিকার ও এসমস্ত বিষয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা সৃষ্টির প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্র হচ্ছে হাসপাতাল। হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হলেও এর মান-গুণের আড়ালে অন্তর্নিহীত সমাজসেবা শব্দটি। মানুষ কেবল রোগ-বালাই নিরাময় চিন্তায় হাসপাতালে আসবে, সে সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। বর্তমান হাসপাতাল ভবন নির্মাণ বৈশিষ্ট্য ও অবকাঠামো বিন্যাস পুনঃ-বিন্যাসে দৃষ্টি বৈচিত্র্য মানসপট সৃষ্টি করা হচ্ছে। ওখানের চিকিৎসা প্রদান পদ্ধতি, সেবামনষ্কতা, আন্তরিক নিষ্ঠা, প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণে সমাজের সৃষ্টিশীল মানুষের আনাগোনার নজির এখন ভুঁড়িভুঁড়ি। রোগীবান্ধব পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের কারণে ১৯০৫ সনে নয়নাভিরাম নৈসর্গিক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এখন অসহায় রোগীদের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত চিকিৎসাপ্রাপ্তির আশায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীর ভীড় হাসপাতালটিকে ঐতিহ্য আর ইতিহাসের সংমিশ্রণ ক্ষেত্র তৈরি করছে। নান্দনিক স্থাপত্য আর মনস্তাত্ত্বিক পরিচর্যার হাতছানি দেওয়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রতিনিয়ত রোগীর ভীড় বাড়ছে। সংখ্যার দিকে সরকারি হাসপাতালমুখী হওয়া অসচ্ছল দুঃস্থ দরিদ্র মানুষের সারি দীর্ঘ। এখানে ব্যক্তি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে আর্ত-পীড়িত মানুষের সেবায় মনোনিবেশ করার ক্ষেত্র বিশাল। এর ব্যাপ্তি ব্যাপক। স্বাস্থ্য চিন্তাকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবেও এর রয়েছে গুরুত্ব। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমাজসেবা অধিদপ্তরের ধারাবাহিক আন্তরিক প্রয়াস ‘রোগী কল্যাণ সমিতি’। সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে আত্মপ্রকাশ হওয়া এই সমিতিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ও বিত্তবানদের মাধ্যমে দুঃস্থ রোগীদের নিষ্ঠাবান সহযোগীতার অনুপম ক্ষেত্র এটি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বার্থহীন অনুদানের মাধ্যমে সুনিপুণ ব্যবস্থাপনায় ‘রোগী কল্যাণ সমিতি’ অসচ্ছ্বল রোগীদের নির্ভরতার প্রতীক হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। নির্ধারণ করা সুনির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে সমিতির জীবন সদস্যগণের মধ্যে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞ সজ্জ্বন ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। এক্ষেত্রে সভাপতি নির্ধারিত থাকে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা। চমৎকার বুঝাপড়ার মাধ্যমে সাংগঠনিক বাকী পদসমূহ সমন্বয় করে স্বয়ংসম্পূর্ণ কাঠামো দেওয়া হয়। ‘চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতি’র ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খুরশিদ আরা বেগম পদাধিকারবলে সভাপতি, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. কামরুল পাশা ভূঁইয়া সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে উৎসাহী কিছু সমাজকর্মীর মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য একবছর মেয়াদি একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। গত অর্থবছরে সীমিত আকারে ১৯৯৩ জন রোগীকে নির্ধারিত ফরমেটে সহায়তা করা হয়েছে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জেনারেল হাসপাতালে আগত সকল গরিব রোগীদের সুনির্দিষ্ট সাহায্যক্ষেত্র বিবেচনায় সরকারী অনুদান ছাড়া আগামী বছরের বাজেট ধরা হয়েছে পচিশ লক্ষ টাকা। কল্যাণকামী মহৎপ্রাণ মানবতাবাদী মানুষের সম্মিলিত সহযোগীতার মাধ্যমে সমিতি দ্রুততার সাথে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছবে এ প্রত্যাশা অমূলক নয়, বাস্তবায়নযোগ্য। যা সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো কোনরূপ কর্মকাণ্ড আর্থিক কারণে থেমে থাকেনি, বরং সহায়তাপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে অসহায় অসচ্ছল দুঃস্থ আগ্রহী রোগীসাধারণকে হাসপাতালে অবস্থিত সমাজসেবা অফিসে কর্মরত সহযোগীদের আন্তরিক নিষ্ঠার মাধ্যমে নাম ঠিকানা ইত্যাদি রেজিস্ট্রীভূক্ত হয়ে সুনির্দিষ্ট কিছুক্ষেত্রে সাহায্য ভোগ করতে পারে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত দুঃস্থ রোগীদের চিকিৎসক কর্তৃক চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় যাবতীয় চিকিৎসা উপকরণ, ওষুধ, পথ্য, চশমা, লেন্স, রক্ত, কৃত্রিম অঙ্গ, অপারেশন সরঞ্জাম, পরীক্ষা নিরীক্ষা ফি প্রদান, চলমান চিকিৎসা পদ্ধতি সহায়তা করা হয়। তাছাড়া চিকিৎসা উন্নতির ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা ফলোআপ বলে খ্যাত তা প্রত্যক্ষ করে সকল প্রকার আর্থিক সহায়তা করা হয়। হাসপাতালের বিছানায় পরিত্যাক্ত অসহায় নিঃস্ব রোগীদের কাপড়-চোপড় প্রদান, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চলাচলে সহায়ক সরঞ্জামাদি, ক্র্যাচ, হুইল চেয়ার ইত্যাদি প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে দূরাগত রোগীদের বাড়ি পৌছানোর দায়িত্ব, থাকার ব্যবস্থা এমন কি লাশ পরিবহন ও সৎকারে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তাছাড়া সমিতি থেকে সাহায্য নেয়া এবং না নেয়া রোগী সাধারণের চিকিৎসা পদ্ধতি, অসংগতি, অসুবিধার বিষয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনপূর্বক তা নিরসনের সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সমস্ত কার্যক্রমে আবার ভাগ-পরিভাগে রেজিস্ট্রি সংরক্ষণ করা হয়। বিত্তবান মুসলমানদের মধ্য থেকে যাকাত হিসাবে প্রদত্ত অনুদান সম্পূর্ণ ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক যারা যাকাতপ্রাপ্ত হতে পারেন তাদের জন্য বিলি বন্টন ও সাহায্য সহযোগীতা করা হয়। যাকাতের বাহিরে মানবতাবাদী বিত্তবানদের অপরাপর সাহায্য অনুদান মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সংরক্ষিত নাম ঠিকানা গ্রহণপূর্বক সহায়তা প্রদান রীতি চালু রয়েছে। সমিতি কর্তৃক আগামী সহায়তা বাজেটের পুরোটাই নির্ভর করে সর্বসাধারণের মাধ্যমে অর্জিত আর্থিক অনুদানে। এক্ষেত্রে সর্বস্তরের জনসাধারণের নিকট রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বিনীত আবেদন জানাই তারা যেন, তাদের কাক্সিক্ষত যাকাত ও অনুদান চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতির হিসাব নং- ০৫২৩৩০১০০০০০০০২২ ইউসিবিএল আন্দরকিল্লা শাখা অথবা সমিতির নামে ক্রস চেকের মাধ্যমে প্রদান করে দুঃস্থ রোগী কল্যাণে এগিয়ে আসেন। আর্থিকক্ষাত শক্তিশালীর মাধ্যমে মানবতাবোধে উজ্জ্বীবিত হয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই। অতীতে এভাবে একদল মহৎপ্রাণ মানুষের শ্রম, ঘাম, ত্যাগ ও পরিকল্পনায় আর আপনাদের সার্বিক সহযোগীতায় সমিতির গতি কখনো থেমে থাকেনি বরং দ্রুততার সাথে এর তৎপরতা বৃদ্ধি ঘটেছে। আসুন না আমরা আপনারা বিভিন্ন মাধ্যমে সমিতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে অসচ্ছ্বল দুঃস্থ রোগীর কল্যাণে নিজেদেরকে সমর্পন করি।

সর্বশেষ সংবাদ