শীর্ষ সংবাদ

আজ হাসন রাজার ৯৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

মরমী সাধক কবি হাসন রাজার ৯৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। প্রখ্যাত এ সাধক ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শহরের লক্ষণশ্রী’র ধনাঢ্য জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নিজেও একজন জমিদার ছিলেন। ‘একদিন তোর হইব রে মরণ রে হাসন রাজা’ ‘মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে কান্দে হাসন রাজা মন মনিয়া রে’, ‘প্রেমের বান্ধন বান্ধরে দিলের জিঞ্জির দিয়া’, ‘রঙের বাড়ই রঙের বাড়ই রে’, ‘আমি না লইলাম আল্লাজির নাম রে’, ‘লোকে বলে ঘরবাড়ি ভালানা আমার’, আগুণ লাগাইয়া দিলও কুনে হাসন রাজার মনে,’ সহ জনপ্রিয় অসংখ্য গানের জনক হাসন রাজা। হাসন রাজা তার জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রায় কয়েক’শ গান রচনা করেছেন। হাসন রাজার গানে সহজ সরল স্বাভাবিক ভাষায় মানবতার চিরন্তন বাণী উচ্চারিত হয়েছিল। সকল ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে তিনি গেয়েছেন মাটিও মানুষের গান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ১৯২৫ সালে কলকাতায় এবং ১৯৩৩ সালে লন্ডনে হিবার্ট বক্তৃতায় হাসন রাজার দুটি গানের প্রশংসা করেছিলেন। হাওর-বাওর ও মেঘালয় পাহাড়ের পাদ দেশের জেলা সুনামগঞ্জ ‘হাসন রাজার দেশ’ হিসাবেই পরিচিত। কিন্তু মরমী এই সাধকের জীবন ও দর্শন কিংবা তার গানের চর্চা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখানে হয় না বললেই চলে। হাসন রাজার মৃত্যু বা জন্মতারিখ ঘিরেও থাকে না কোন আয়োজন। তবে স্থানীয় মানুষ এবং হাসন সংগীত চর্চাকারী শিল্পীদের দাবি সুনামগঞ্জে লালন মেলার মতো সরকারি পৃষ্ট পোষকতায় হাসন মেলার আয়োজন করা হোক।

আগামী ১০ জানুয়ারি মুজিববর্ষের যত কর্মসূচি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনা শুরু হবে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে। আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শুরু হয়ে মুজিববর্ষের কর্মসূচি চলবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত। এছাড়া, ২০২১ সালে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হওয়ায় মুজিববর্ষের সঙ্গে সঙ্গে সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচিও পালিত হবে। জাতীয় কর্মসূচির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতর পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করবে। এসব মন্ত্রণালয় ও দফতর জনগণকেও দেবে বিশেষ ধরনের সেবা। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রায় সবগুলো কর্মসূচির খসড়া প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এখন মুজিববর্ষের থিম সং ও লোগো নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে। সরকার ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে মুজিব বর্ষ পালন করবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ একাধিক রাজনৈতিক দলও জাঁকজমকপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মুজিববর্ষ পালনে জাতীয় পর্যায়ে গঠন করা হয়েছে দুটি কমিটি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। উদযাপন কমিটির আহ্ববায়ক করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্ববায়ক হয়েছে জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে। দুটি কমিটিতেই সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বরেণ্য রাজনীতিক, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, মুজিববর্ষ সফল করতে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভা করা হয়। ওই সভায় গঠন করা হয় ৮টি উপকমিটি। এগুলো হলো সেমিনার, ওয়ার্কশপ, আলোচনা সভা আয়োজন উপকমিটি; আন্তর্জাতিক কর্মসূচি যোগাযোগ উপকমিটি’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী আয়োজন উপকমিটি; প্রকাশনা ও সাহিত্য অনুষ্ঠান উপকমিটি; আন্তর্জাতিক প্রকাশনা অনুবাদ উপকমিটি; ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন উপকমিটি; মিডিয়া প্রকাশ ও ডক্যুমেন্টেশন উপকমিটি এবং চলচ্চিত্র তথ্য চিত্র উপকমিটি। এসব উপকমিটি তাদের কর্মসূচি প্রণয়ন করে ইতোমধ্যে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছে। উপকমিটি ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতর থেকে কর্মসূচির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের নিরীখে তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্ববহ বিষয়গুলো সমন্বয় করে একটি বিষয়ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কোতে বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তন, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের আরও ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন, ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজে বঙ্গবন্ধু সেন্টার স্থাপন, লন্ডনে মাদাম তুসো জাদুঘর ও জাতিসংঘ সদর দফতরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, উইমেন, পিচ অ্যান্ড সিকিউরিটি শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন, জুলিও কুরি পদক প্রাপ্তি দিবস উদযাপন, কফি টেবিল বই প্রকাশ; বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইংরেজি ছাড়াও হিন্দি, উর্দু, ফরাসি, জার্মান, চাইনিজ, আরবি, ফারসি, স্প্যানিশ, রুশ, ইতালীয়, কোরীয় ও জাপানি-এই ১২টি ভাষায় অনুবাদ। জাতীয় বাস্তবায়ন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধুর বায়োগ্রাফি প্রকাশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও বাংলাদেশকে কান্ট্রি অব ফোকাস হিসেবে উপস্থাপন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৮৯টি ইভেন্টে টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৫০টি হবে জাতীয় ও ৩৯টি হবে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। সব খেলাধুলা বঙ্গবন্ধুর নামে হবে। এছাড়া গাজীপুর, জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও বগুড়ায় নৌকাবাইচের আয়োজন করবে। দেশীয় ও লোকজ খেলা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় চৌদ্দ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি করে দেবে। মুজিব বর্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার হিসেবে এ প্রকল্প কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২০ সালের মার্চ থেকে টানা ১৩ মাস প্রতি মাসের ১৭ তারিখে ১৭টি রুটের টিকিটে অনলাইনে ক্রেতাদের প্রথম ১৭ জনকে টিকিট মূল্যের ১৭ শতাংশ ছাড় দেবে। এছাড়া বাংলাদেশ হতে ছেড়ে যাওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের মুজিববর্ষের লোগো সম্বলিত উপহার প্রদান করবে। পর্যটন করপোরেশন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ১৭ মার্চ ১০০ পাউন্ডের কেক তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেবে। কক্সবাজারে তারা কার্নিভাল ও সার্ফিং উৎসবের আয়োজন করবে। তারা ঐতিহাসিক মুজিবনগর ও জাতির পিতার সমাধি টুঙ্গিপাড়ায় প্যাকেজ ট্যুর পরিচালনা করবে। ঢাকা-চাঁদপুরে একটি ইলিশ প্যাকেজের আয়োজন করা হবে। মুজিববর্ষে দশটি বিশাল ক্যানভাসে ছবি আঁকবেন দেশের প্রখ্যাত দশজন শিল্পী। আট ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের ভিন্ন আঙ্গিকে নিখুঁতভাবে উদ্ভাসিত হবেন বঙ্গবন্ধু। প্রতিটি ছবিতেই ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আঁকা হবে জাতির পিতাকে।

চট্টগ্রামে বায়ুদূষণের ভয়াবহ অবস্থা পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে হবে

শীতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাসমান ক্ষতিকর বস্তুকণা বাতাসে বিরাজ করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বড় শহরগুলোর মধ্যে সহনীয় মাত্রার তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে চট্টগ্রামের বায়ুদূষণ। সেই সাথে শব্দ দূষণেও চট্টগ্রামের পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারই শীত মৌসুমে বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে দেখতে পাচ্ছেন। তারা বলেছেন, যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আসন্ন শীতকালে ভয়াবহ ধুলো দূষণের মুখোমুখি হবে । একই অবস্থা ঢাকার আশপাশের শহরগুলোর। বিভিন্ন নির্মাণ কাজ, নির্মাণাধীন সড়ক এবং অন্য অনেক উৎস থেকে অবারিত ধুলা নির্গমনের ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এটি এখন পরিবেশগত সমস্যা নয় বরং প্রধান জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামের পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে এ বায়ূদূষণের জন্য- দোষ আরোপ করা হলেও বস্তুত উন্নয়ন কার্যক্রমের শর্তাধির মধ্যেই জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে এমন যেকোন বিষয় সতর্কতা অবলম্বনের কথাও কার্যাদেশে উল্লেখ থাকে। কিন্তু ঠিকাদাররা তা মানতে রাজি নয়; ফলে উন্নয়ন বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। এর পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া এবং হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহারের কারণেই দূষণের মাত্রা বাড়ায় নগরবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানান পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের যে ভয়াবহ অবস্থা আমরা লক্ষ্য করছি, তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সারা দেশ এ দূষণে আক্রান্ত হবে। সম্প্রতি ঢাকার পরে চট্টগ্রামের বায়ুদূষণ বেশ উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস রোগসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সম্প্রতি একটি ইলেক্ট্রিক মিডিয়ায় প্রচারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বায়ুদূষণের জন্য চলমান উন্নয়ন কাজকে দায়ী করা হলেও তা নিরসনে কোনে উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে এমন ধোঁয়াশার কারণ রাস্তার ধূলিকণা। এটি বন্দর নগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের গুরুত্বপূর্ণ এক্সেস রোডের চিত্র। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়াও কষ্টকর এই এলাকায়। বিবর্ণ রাস্তার পাশের সব গাছপালা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এরমধ্যেই রাস্তায় বেরুতে হচ্ছে লোকজনকে। ফলে নানা রকম রোগ-জীবাণুতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এই আধাকিলোমিটারের মধ্যে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল। যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, এদের বেশিরভাগই ধুলাবালি জনিত কারণে আক্রান্ত। কেবল আগ্রাবাদ নয়, বহদ্দারহাট, বায়েজিদ, অক্সিজেন, বাকলিয়াসহ পুরো নগরীতেই এখন একই অবস্থা। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নগরীতে বায়ু দূষণের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। তবে নগরীতে বায়ুদূষণের জন্য চলমান উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করেন সিটি মেয়র। নগরীর বিভিন্ন সড়কে সিডিএ, ওয়াসাসহ নানা সেবাপ্রতিষ্ঠানের চলছে এই উন্নয়ন কাজ। অভিযোগ রয়েছে যে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতর পাহাড়কাটা, জলাশয় ভরাট, নিষিদ্ধ পলিথিন আটকসহ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেও বায়ু দূষণ বিরোধী অভিযান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। অন্যদিকে অভিযানে দায়ের করা মামলার তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রাম পরিবেশ আদালত সূত্র জানায়, পরিবেশ আদালতে বর্তমানে তিন শতাধিক মামলা বিচারাধীন। অধিকাংশ মামলার তদন্ত রিপোর্ট এখনও আদালতে পৌঁছেনি। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নগরীর একে খান মোড়, সিটি গেট, জিইসি মোড়, টাইগারপাসসহ বিভিন্ন এলাকার বাতাস পরীক্ষা করে পরিবেশ অধিদফতর দেখতে পায়, এসব এলাকার বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার (সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট মেটার বা এসপিএম) পরিমাণ গ্রহণযোগ্য মাত্রার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের বেশি। বাতাসে এসপিএমের সহনীয় মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রাম। সেখানে একে খান মোড়ে এর পরিমাণ ৪২০ মাইক্রোগ্রাম, সিটি গেটে ৪৪০ মাইক্রোগ্রাম, বিআরটিসি মোড়ে ৪৩৫ মাইক্রোগ্রাম, আগ্রাবাদে ৩৯৫ মাইক্রোগ্রাম, ষোলশহরে ৪০৬ মাইক্রোগ্রাম ও টাইগার পাস মোড়ে ৪২৬ মাইক্রোগ্রাম। বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান বিপজ্জনক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে শব্দ দূষণের মাত্রাও সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিল্প এলাকায় শব্দের সহনীয় মাত্রা ৭৫ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবল, আর মিশ্র এলাকায় ৬০ ডেসিবল। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা যায়, নগরীর খুলশী (আবাসিক) এলাকায় শব্দের মাত্রা ছিল ১০৬ ডেসিবল, ইস্পাহানি মোড়ে ১১০ ডেসিবল, একে খান গেট (শিল্প) এলাকায় ১৩৫ ডেসিবল, পাহাড়তলী এলাকায় ১৫৫ ডেসিবল।জানা গেছে, ঢাকা জেলাসহ সারা দেশে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ছাড়পত্রহীন এসব ইটভাটা মানছে না আবাসিক এলাকা, মানছে না কৃষি জমি। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ইটভাটাগুলোতে বেআইনিভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, দূষিত হচ্ছে বায়ু। নরওয়েভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এনআইএলইউ) মাধ্যমে পরিবেশ অধিদফতরের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরে বায়ু দূষণের জন্য ইটভাটা দায়ী ৫৮ শতাংশ, রোড ডাস্ট ও সয়েল ডাস্ট ১৮ শতাংশ, যানবাহন ১০ শতাংশ, বায়োমাস পোড়ানো ৮ শতাংশ এবং অন্য উৎস ৬ শতাংশ দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইন্সটিটিউট এবং ইন্সটিটিউট ফর হেলথ ইভাল্যুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালাইসিস (সিইএ) ২০১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিবছর বাংলাদেশে বায়ু দূষণজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার। পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মতে, দেশে বায়ুদূষণ প্রতিনিয়তেই বাড়ছে, কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণে কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। মূলত পরিবেশ অধিদপ্তরের আন্তরিক কর্মতৎপরতার উপর এ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অনেকটা নির্ভর। একইভাবে সরকারের উন্নযন প্রকল্প বা নগর কর্তৃপক্ষের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। জনসচেতনতাও বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়ে তাদের মনোযোগ আরো বৃদ্ধি করবে।মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ু ও ধুলা দূষণের প্রভাব : ধুলা দূষণের ফলে ক্ষণস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। ক্ষণস্থায়ী সমস্যাগুলো মধ্যে নাক-মুখ জ্বালাপোড়া করা, মাথা ঝিমঝিম করা, মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব ইত্যাদি অন্যতম। ধুলা মিশ্রিত জীবাণু, ভারী ধাতু ও গ্যাসীয় রাসায়নিকের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, যক্ষ্মা, কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, জন্মগত ত্রুটি, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব, হার্ট অ্যাটাক, যকৃত সমস্যা, গর্ভবতী মায়েদের ওপর প্রভাব, চর্মরোগ ও নিউমোনিয়া ইত্যাদি দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা সমস্যা দেখা দেয়। বায়ু দূষণ রোধে আমাদের করণীয় : বায়ু দূষণ কমাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সুষ্ঠুভাবে পরিকল্পনা ও আইনের প্রয়োগ করতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ইট তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কম সালফারযুক্ত কয়লার ব্যবহার করতে হবে। নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখতে হবে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, সব আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে, ডিজেলের পরিবর্তে সিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে পাবলিক পরিবহন ব্যবহারের প্রতি সবাইকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। ইটভাটায় সর্বাধুনিক পদ্ধতি এবং যানবাহনে ক্যাটালাইটিক কনভার্টারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। d,purbodesh

আজ গণতন্ত্র মুক্তি দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর, গণতন্ত্র মুক্তি দিবস ও স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণ-আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ। এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে মুক্তি পায় গণতন্ত্র। তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী সংগ্রামী দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯০ সাল পরবর্তী দুই দশকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র, সংবিধান, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সপরিবারে জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় আমরা কার্যকর করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধীদের বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে। আদালত ২১-এ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রদান করেছে (বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে)। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের সত্য ও ন্যায় এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। এ দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার তার সামরিক লেবাস বদলে হন ‘গণতন্ত্রী’। কিন্তু দেশের মানুষ তাকে মেনে নেয়নি। তার বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে টানা প্রায় ৯ বছর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল ও বামপন্থীদের নিয়ে গঠিত ৫ দলীয় জোট তীব্র আন্দোলনে নামে। ১৯৯০ সালের নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরে ছাত্র-গণআন্দোলন আরও বেগবান হয়। ৫ ডিসেম্বর রাতে এরশাদ পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। পরদিন রাজপথে নামে জনতার ঢল। যেন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার আবেগপ্লুত গোটা জাতি। শুরু হয় গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা

চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান চলে গেলেন না ফেরার দেশে

ফেরার দেশেই চলে গেলেন দশবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া বরেণ্য চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।যদিও তিনি সে সময় চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাসপাতালেই ছিলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক সদস্য মাহফুজুর রহমান খানের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, গত ৩০ নভেম্বর মাহফুজুর রহমান খানের অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকদের পরামর্শে গ্রিন লাইফ হাসপাতাল থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আর এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার স্বজনরা জানান, পুরান ঢাকার চকবাজারের শাহী মসজিদে আজ শুক্রবার তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে পরিবারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এফডিসিতে নেওয়া হতে পারে। পরিবারের ভাষ্য, ২৫ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের দিনও পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন মাহফুজুর রহমান খান। কিন্তু ওইদিন সন্ধ্যায় খেতে বসলে তার কাশির সঙ্গে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর দ্রুত হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় এই চিত্রগ্রাহককে। কিন্তু ২৮ নভেম্বর ফুসফুস ও পাকস্থলীতে থেমে থেমে রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো বলে জানান তার চিকিৎসকরা। এমনকি বিভিন্ন অঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়ে তার। শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হলো না এই গুণী চিত্রগ্রাহকের। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাহফুজুর রহমান খান ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন। তার স্ত্রী মারা যান ২০০১ সালে। তখন থেকেই ধীরে ধীরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পেশাদার চিত্রগ্রাহক হিসেবে মাহফুজুর রহমান খান ১৯৭২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ করেন। তিনি আলমগীর কবির, আলমগীর কুমকুম, হুমায়ুন আহমেদ, শিবলি সাদিকদের মত কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রায় সব চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রাহক ছিলেন তিনি। তার চিত্রগ্রহণে সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য - আমার জন্মভূমি, অভিযান, মহানায়ক, চাঁপা ডাঙ্গার বউ, ঢাকা ৮৬, অন্তরে অন্তরে, পোকা মাকড়ের ঘর বসতি, আনন্দ অশ্রু, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নন্দিত নরকে, হাজার বছর ধরে, বৃত্তের বাইরে, ঘেটুপুত্র কমলা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র মজবুত ভিতের ওপর রয়েছে: রাষ্ট্রপতি

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র এখন মজবুত ভিতের ওপর রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার যে লক্ষ্য ছিল, সেটি এখনো পুরোপুরি অর্জন হয়নি। রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে রেখে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ এবং শতবছর মেয়াদি ব-দ্বীপ ২১০০ পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ কার্যক্রম শিক্ষিত তরুণরাই এগিয়ে নেবে। তিনি বলেন, এ দেশ অপার সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশের বিপুল মানবসম্পদ রয়েছে। আমাদের সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ ও উর্বর ভূমি রয়েছে। জনবহুল এ দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার দরকার। প্রকৌশলীরা উন্নয়নের কারিগর। তাদের সৃজনশীল চিন্তা, মেধা ও মনন থেকে বেরিয়ে আসে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা। তাই প্রকৌশলীদের চিন্তা ও চেতনায় থাকতে হবে দূরদর্শী চিন্তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, ২০৫০ সালে ও ২১০০ সালে দেশ কোন স্তরে পৌঁছাবে, তা বিবেচনায় রেখেই প্রকৌশলীদের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। আশা করি, নবীন প্রকৌশলীরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করবে

কিডনি কেনাবেচা যাবে না: দান করা যাবে, হাইকোর্ট

বিশেষ পরিস্থিতি, মানবিক বিবেচনা ও সহানুভূতিশীল বা নিকট আত্মীয়ের বাইরে পরিচিত কিংবা সম্পর্ক আছে, এমন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কিডনি দিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে মানব শরীরের এই অঙ্গটি কেনাবেচা করা যাবে না। এ ছাড়া মাদকাসক্ত এবং কিডনি কেনাবেচা করেন এমন ব্যক্তির কিডনি দেওয়া যাবে না বলেও আদেশ দেন হাইকোর্ট।সাড়ে চার বছর আগে করা এক রিটের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার নীলিমা ইয়াসমিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ। এর আগে ৭ নভেম্বর কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে সাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কমিটি আদালতে মতামত দাখিল করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রো-ভিসি ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা.মুহাম্মদ রফিকুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটিতে ছিলেন কিডনি ফাউন্ডেশনের চিফ কনসাল্ট্যান্ট অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ, বিএসএমএমইউ’র নেপ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা.আসিয়া খানম, বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম খুরশীদুল আলম, বারডেম হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা এম এইচ ফয়সাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম এবং জাতীয় কিডনি ডিজিস ও ইউরোলজি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা। তারা বলেছেন, আত্মীয় নন, এমন কারও কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন নেই। আইনের বাইরে অন্য কারও কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের দরিদ্র মানুষের জীবন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ধনীরা বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার করবে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের মাত্রা বাড়বে বলে অভিমত দেয় এ বিশেষজ্ঞ কমিটি। তবে সাত সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিষয়ে দেশের বর্তমান আইন সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। এই আইনে নিকটাত্মীয় ছাড়া অন্য কারও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার সুযোগ নেই। তাই একজন সুস্থ মানুষ চাইলে অন্য কাউকে তার অঙ্গ দান করতে পারেন, এমন আইন থাকা দরকার। ফাতেমা জোহরা নামের একজন নারী ২০১৫ সালে তার মেয়ে ফাহমিদাকে একটি কিডনি দান করেন। এরপরও মেয়ের কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দাতা পেলেও আইনগত বাধার কারণে মেয়েকে আর কিডনি দিতে না পেরে রিট আবেদন করেন। মানবদেহে কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে হাইকোর্ট গত ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট এক আদেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-১৯৯৯-এর তিনটি ধারা (২গ, ৩ ও ৬) কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে গত ২৯ নভেম্বর রুলের শুনানি শেষে এ বিষয়ে ৫ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্র চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈষম্য মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পর্কে ‘নেতিবাচক মানসিকতা’ পরিহার করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার ৩৯টি উপজেলায় মোট ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা চালু রয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমপ্লেক্স ‘সুবর্ণ ভবন’ উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের জন্য সব মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তার সরকার বৈষম্য মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য স্বাধীনতা নিয়ে এসেছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো এই স্বাধীন দেশের সকল জনগণ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে এবং আমরা এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি। অটিজম অথবা প্রতিবন্ধীতা কোন রোগ অথবা অসুস্থতা নয় এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে অটিজম অথবা প্রতিবন্ধীতায় যারা ভুগছেন তারা সমাজের মূলধারার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন। আমরা জানি যে, এ ধরনের প্রতিবন্ধীতায় যে সব শিশুরা ভুগছেন তাদের পিতা মাতার জন্য এটি খুবই বেদনাদায়ক। আমরা তাদের এই দুর্দশা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। দেশের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার এই উন্নয়নে প্রতিবন্ধীদের ওপর জোর গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন,আমরা চাই দেশের উন্নয়ন এবং আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের গুরুত্ব দিচ্ছি যাতে তারা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে না থাকে।

টঙ্গীর পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্খা

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া মুদাফা এলাকার বেড়িবাঁধে অবস্থিত এননটেক্স পোশাক কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্খা করা হচ্ছে। টঙ্গীর মুদাফা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট। অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান রোমেল। তিনি সংবাদিকদের জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে।

দুর্নীতি মামলায় খালেদার জামিন শুনানি আগামী ১২ ডিসেম্বর

জাকেরুল ইসলাম ঢাকাঃ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মূলতবি করেছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার সবশেষ প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্র্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন। এ সময় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সময় প্রার্থনা করেন। তারা বলেন, এখনও খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা বাকী। এগুলো শেষ করে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এসময় এর প্রতিবাদ জামিন অন্তবর্তী জামিন প্রার্থনা করেন। পরে আদারত ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের সংশ্নিষ্ট শাখায় গত ১৪ নভেম্বর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। পরে ১৭ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জামিন আবেদনটি আপিল বিভাগে কার্যতালিকাভুক্ত হয়। গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও খালেদা জিয়াকে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ওই মামলায় তার ১০ বছর দণ্ড হয়। দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন।

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স নিশ্চিত করেছে গেইলকে ক্রিস গেইলকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বিপিএল খেলতে রাজি হয়েছেন টি-টুয়েন্টির মারকুটে তারকা। তবে আসরের শুরু থেকে তাকে পাচ্ছে না চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট থাকায় এ ক্যারিবিয়ান দলে যোগ দেবেন কয়েকটি ম্যাচ পর। সোমবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স নিশ্চিত করেছে গেইলকে পাওয়ার খবরটি। দলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম রিফাতুজ্জামান জানান, ‘ক্রিস গেইলের হ্যামস্ট্রিংয়ে হালকা চোট আছে। পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বিপিএল খেলার ব্যাপারে তার কখনও আপত্তি ছিল না। আমরা হয়তো পুরো বিপিএলে গেইলকে পাবো না। পরের দিকে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের জার্সিতে মাঠ মাতাবেন এ ব্যাটিং জিনিয়াস।’ব্যক্তিগত কারণে এবার বিপিএলে অংশ নেবেন না গেইল, এমন খবর প্রকাশিত হয় দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে। তবে শুরু থেকেই ইউনিভার্স বসকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।বিপিএলের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যানকে ছাড়া অনেকটাই রং হারাবে এবারকার আসর- এমন চিন্তায় গেইলকে পেতে সম্ভাব্য সবরকমের চেষ্টা করে দলটি। অবশেষে মিলল সুখবর। বিপিএলের আগের ছয়টি আসরেই খেলেছেন গেইল। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এ টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান তিনি। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি, সবচেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি, সবচেয়ে কম বলে ফিফটি- এমন দারুণ সব রেকর্ড আছে এ বাঁহাতি ওপেনারের। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ ইয়াসির আলম জানান, ‘ক্রিস গেইলের এজেন্টের সঙ্গে আমাদের সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। টুকটাক কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। সেগুলো শিগগিরই সম্পন্ন হয়ে যাবে।’

সর্বশেষ সংবাদ